ভালোবাসা এক অদ্ভুত অনুভূতি যা কারও কাছে প্রকাশ করা যায় না
মানুষ কখনও কখনও কাউ কে নিজের অজান্তে নিজের থেকেও বেশি ভালোবেসে ফেলে
কখনও কখনও কারও অন্ধকার জীবনে কেউ আলো হয়ে এসে                                          কখনও মানুষ কারও হাত ধরে হাট তে শিখে

কখনও মানুষ বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য খুজে পায়

ঘটনা টা ছিলো ২০১৫ সালের মার্চের
বারান্দায় বসে আকাশ দেখছিলাম তখন নিচে তাকানোর পর একটা মেয়ে কে দেখতে পেলাম
মেয়েটা ছিল অনেক ছোট আর নিষ্পাপ
ঐ মেয়ে টা কে দেখার পর ভিতরে কেমন জানি অদ্ভুত অনুভূতি হল
তখন আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না কিন্তুু ভিতর টা কেমন জানি আনন্দে নেচে উঠল
অনেকক্ষণ ঐ মেয়েটার দিকে এক নজরে তাকিয়ে ছিলাম
তারপর দেখলাম ঐ মেয়েটা আমাদের বিল্ডিং এ ঢুকল
আমাদের বিল্ডিং ছিল পাঁচতালা বিশিষ্ট
পরে জানলাম এই মেয়ে দুই তালায় থাকে
আর আমরা থাকি ৪ তালায়
এই ভাবে অনেক দিন আড়াল  থেকে ঐ মেয়ে টা কে দেখতাম

অনেক কষ্ট করে আম্মুর কাছ থেকে ঐ মেয়ের নাম জানতে পারলাম
ওর নাম ছিল তৌসি
নামটা শুনার পর মনে হল ওর মতই ওর নাম টা ও নিষ্পাপ
তখন তৌসি ক্লাস ৫ এ পড়ত
কি ভাবে মেয়েদের সাথে কথা বলতে হয় তা কিছুই  জানতাম না তাই ওর সাথে দেখা হলেও কথা বলতে  পারতাম না
এই ভাবে কেটে গেলে অনেক মাস
২০১৬ সালের কথা তৌসি তখন ক্লাস ৬ এ পড়ে
ভাবছিলাম আর এই ভাবে কষ্ট করতে পারব না
ওকে যেই ভাবে হক মনের কথা টা বলতে হবে
কিন্তুু আমার অনেক ভয় হত
যদি ও এই সব বিষয়ে কিছু না বুঝে!!!
যদি বাসায় বিচার দেয় তাহলে আম্মু আমাকে মেরেই ফেলবে!
এই সব নিয়ে অনেক ভয়ে থাকতাম
ওর সামনে পড়লে কিছুই বলতে পারতাম না
কিন্তুু আড়াল থেকে ঠিক ই ওরে দেখতাম

২০১৭ সালের ঘটনা
তৌসি কে তখন আরও বেশি ভালোবেসে ফেলি
এতটাই বেশি যে ওরে একবার না দেখলে কেমন জানি লাগত
একবার না দেখলে নিজে কে অনেক অসহায় মনে হতো
রাতে ঘুম হতো না
এমন কি বেশি কষ্ট হলে রাতে কান্না করতাম

ওরে দেখার জন্যই আমি ঘুমাতাম
আর ওরে দেখব বলেই আমি জাগ্রত হতাম
নিজের জীবনে হাসি-খুসি বলতে কিছুই ছিলা না
তাকে দেখেই আমি বাঁচতে শিখলাম
আগে বাঁচতাম নিজের জন্য আর এখন বাঁচি ওরে ভালোবাসব বলে

রাতের বেলা যখন আমি ঘুমাতাম তখন অনেক ভয় পেতাম
যদি এটাই আমার জীবনের শেষ ঘুম হয়ে থাকে!
আমি মৃত্যু কে ভয় পেতাম না কিন্তুু
এই ভেবে ভয় পেতাম, যদি ওর ভালোবাসা পাওয়ার আগেই আমি মরে যাই!!
যদি এমন হয় তাহলে আমি মরেও শান্তি পাবো না
এই সব ভাবলে ভীষণ কান্না পেত

আল্লাকে বলতাম, হে আল্লাহ
আমি মরার আগে যেন তৌসির  একটু ভালোবাসা পেয়ে মরতে পারি
প্রায় প্রতিরাতে আমি ওর জন্য কান্না করতাম
তখন নিজের মন কে বললাম,,, অনেক হয়ছে!!! আর না
আমি এই ভাবে আর কষ্ট করতে পারব না
যেই ভাবে হক তৌসি কে নিজের মনের কথা টা বলতেই হবে

কিন্তুু কি ভাবে বলব? ওর সামনে গেলে ভয়ে হাত-পা কাপত
ওরে এতো টা ভালোবাসতাম কিন্তুু ও কিছুই জানত না

তৌসি কে Propose করার মত আমার সাহস ছিলনা
কারণ, ও আমার বেপারে কিছুই জানত না
এমন কি আমাকে চিনত ও না
শুধু বাসা থেকে বের হওয়ার সময় আমাদের দেখা হতো
আমার জীবনে আমার কোনো ফ্রেন্ড ছিলনা যাকে এই সব খুলে বলবো
কেউ ছিলনা যে আমার সাহায্য করবে
তারপর ভাবলাম, তৌসির ফ্রেন্ডদের হেল্প নিব
কিন্তুু ব্যাপার টা হচ্ছে ওর কোনো ফ্রেন্ড কে আমি চিনতাম না
তাই ফেইসবুকে ওর ফ্রেন্ডের কে খুজা শুরু করলাম
প্রায় ১.৫ মাস খোঁজার পর এমন এক জন কে পেলাম যে তৌসি কে চিনে
ওর নাম: Mehegh Rahman
এই মেয়ে কে তৌসির ব্যাপারে জিজ্ঞাস করার পর ও বললো,,,, ও নাকি তৌসির ফেইসবুক ফ্রেন্ড
আমি তৌসির আইডির নাম জানতে চাইলাম তখন ঐ মেয়ে টা বললো,,, তৌসির আইডি নাকি ডিএক্টিভেট
আবার ১৫ দিন পর জানতে পারলাম তৌসির আইডি এক্টিভেট করা হয়েছে

ওর আইডি তে Request সেন্ড করলাম কিন্তুু ৫ দিন হয়ে গেছে request except করে না
এর ঠিক পরে দিন আমার ছোট ভাই ও ছোট ভাইয়ের ফ্রেন্ড কে নিয়ে ছাদে উঠলাম
তখন তৌসি ও ছাদে উঠল
আমি এক দৃষ্টি তে তার দিকে অনেক ক্ষণ তাকিয়ে ছিলাম
আমার ছোট ভাইয়ের ফ্রেন্ড টা তখন সব বুঝে গেছিল

বছরের শেষ দিকের কথা
তৌসির বার্ষিক পরিক্ষা শুরু হয়েছে। আমি যদি পরিক্ষার মধ্যে ওর সাথে যোগাযোগ না পরতে পারি তাহলে এই বছরে আর কথা হবে না, স্কুল খুলা না পযর্ন্ত
কারণ পরিক্ষার পর স্কুল বন্ধ
আমি কিছু না পারলেও শুধু কান্না করতে পারি
তৌসির পরিক্ষা শুরু হতো ১০:০০ টার দিকে আর শেষ হতো ১:০০ টা দিকে।
আমি সকাল ৯ টার দিকে অনেক কষ্ট করে ঘুম থেকে উঠে ওকে দেখার জন্য বারান্দায় বসে থাকতাম
তৌসির প্রেমে পুরাই পাগল হয়ে গেয়েছিলাম
এইটাই পাগল হয়ে গেয়েছিলাম যে কি করবো না করবো কিছুই বুঝতাম না
তাই তো প্রতি দিন ওকে দেখার জন্য সকাল ৯:০০ থেকে দুপুর ১:৩০ পর্যন্ত রৌদে বসে থাকতাম
এক সেকেন্ডের জন্যও কোথাও যেতাম না

কিন্তুু ও একবার ও উপরে আমার দিকে তাকাইত না
এই ভেবে অনেক কষ্ট পেতাম
ওরে দেখলে দুনিয়ার সব হাল ছেড়ে এক নজরে ওর দিকে তাকিয়ে থাকতাম
এমন মনে হত, আমার  সুখ-শান্তি,চাওয়া-পাওয়া সব কিছু ওর মধ্যে

যাইহক, অনেক চেষ্টা করলাম কিন্তুু তৌসির সাথে কোনো ভাবেই Contract করতে পারলাম না
আবারও ফেইসবুকে ওর ফ্রেন্ডদের  কে  খোঁজা শুরু করলাম
অনেক অনেক কষ্টের পর তৌসির একজন ফ্রেন্ড কে খুজে পেলাম
যার নাম ছিল: Mahzabin Maria
এই মেয়েটি কে সব খুলে বললাম
ও ভালো করেই বুঝেছে যে, তৌসি কে আমি পাগলের মত ভালোবাসি
ও বলেছিল, আমার হেল্প করবে
মারিয়ার কথা গুলা আমার কাছে সুমধুর লাগছিল
আমি ওরে বলেছিলাম,,, আমি তুমার এই হেল্পের মূল্য কোনো দিন ও দিতে পারব না
কিন্তুু আল্লাহর কাছে নামাজ পড়ে তুমার জন্য দোয়া করব
মারিয়া কে আমার বোন বানালাম
আর সারা টা দিন শুধু তৌসি কে নিয়ে কথা বললাম
আর ও আরও বললো, আমার রাস্তা ক্লিয়ার
তৌসির নাকি বয়ফ্রেন্ড নাই
এই কথা টা শুনারপর আনন্দে দিশেহারা হয়ে পড়লাম

কথায় বলে,, কারও কাছে বেশি আশা করা ঠিক না

পরের দিন পরের দিন টা ছিল সবচেয়ে দুঃখজনক
সকালে দেখি মারিয়া আমাকে ব্লক মারল
কিছুই বুঝতে পারলাম না
কান্না কান্না ভাব
কি করব জানি না
আমার অন্য আইডি দিয়ে মারিয়াএ সাথে কথা বললাম
ওরে জিজ্ঞাস করলাম,,,
তুমি আমার সাথে এমন করলে কেন????
আমি কি করছি????
তুমাকে বোন ভেবে তুমার কাছে হেল্প চাইছি আর তুমি এমন করতে পারলা???

এই সব শুনার পর মারিয়া আমাকে বললো,,
তৌসি আমাকে ভালোবাসে না
আমার কোনোই হেল্প আর করবে না

আমি তখন আসহায়ের মত কান্না করা শুরু করলাম
কারণ, ও ছাড়া আমার হেল্প করার মত আর কেউ ছিলনা
আমি মারিয়ার বড় হয়েও ওরে বলেছি,,,
আমি তুমার হাতে ধরি, পায়ে পড়ি প্লিজ আমার হেল্প করো
আমি তৌসি কে ছাড়া মরে যাবো

কিন্তুু ও আমার হেল্প করে নি
করার আর কিছু ছিল না
যেহেতু আমার কোনো ফ্রেন্ড ছিল না তাই আমার এলাকার কিছু ক্লোস ছোট ভাই আছে যাদের কাছে আমার মনের সব কথা শেয়ার করতাম
ওদের সাথে বাসার সামনের মাঠে খেলতাম
জুনায়েদ নামক আমার এক এলাকার ছোট ভাই আছে যাকে নিজের ভাইয়ের মতই দেখতাম
আমি তৌসি কে কতটা ভালোবাসতাম তা জুনায়েদ কে খুলে বললাম
ওরে বললাম,,, ভাই আমি প্রেমে পড়ছি
নিজের জীবনের থেকেও বেশি ওরে ভালোবাসি ওরে না পাইলে আমি সুইসাইড করবো

এই সব শুনে জুনায়েদ বললো,, তুমি কি পাগল হয়ে গেছ নাকি?????

তারপর আমি বললাম,,, ভাই আমি তৌসি কে কতটা ভালোবাসি তা তুমাকে বলে বুঝাতে পারব না
ও অনেক ভালো, দেখতে নিষ্পাপ তুমি প্লিজ কিছু একটা করো

তারপর জুনায়েদ বললো, এক্সাম শেষ হওয়া আমি দেখতাছি

 

কিন্তুু এত দিন ওয়েট করা আমার পক্ষে কোনো ভাবেই সম্ভব ছিল না
আর জুনায়েদ হেল্প করতে পারবে তা সিওর না
আমি আবারও তৌসির ফ্রেন্ডের খোঁজা শুরু করলাম
কয়েক দিন খোজার পর এক জন কে পেলাম
যার নাম: Nilpori prapti
তারপর প্রাপ্তি কে আমার বোন বানালাম
তৌসি কে আমি কতটা ভালোবাসি তা ও কে বুঝালাম
ও বলছে,, আমার কথা তৌসি কে বলবে
পরের দিন প্রাপ্তি কে বললাম,,, তৌসি কে আমার কথা বলছিলা??
প্রাপ্তি বললো,, মনে নাই কাল সিউর বলবো
সারা রাত প্রাপ্তির সাথে তৌসি কে নিয়া কথা বললাম
প্রাপ্তি আমাকে বলেছে, তৌসি অনেক ভালো
একটু পর পর ওরে মেসেজ দেয়
আমি বুঝতে পারছিলাম না যে, আমার মেসেজ পেয়ে ও ডিস্টার্ব ফীল করতাছে
কারণ, আমি পাগলের মত হয়ে গেছিলাম
পরের দিন প্রাপ্তি কে মেসেজ দেয়
৬-৭ মেসেজ দিওয়ার পরও প্রাপ্তি মেসেজ রিপ্লাই করে না
রাতের বেলা আরও অনেক গুলা মেসেজ দেয়
তারপর ও বললো, ওরে আর মেসেজ না দিতে
আমার মেসেজ পেলে নাকি ও ডিস্টার্ব ফিল করে
ও নাকি সব সময় ক্লেশ অফ ক্লেন গেমস নিয়ে বিজি থাকে
এই সব শুনার পর অনেক কান্না করলাম
প্রাপ্তি তৌসি কে আমার কথা বলেছে কিনা তাও জানতাম না

আমি অসহায় বলে কেউ আমার হেল্প করলো না
আমার হেল্প করার মত মত কেউ ছিল না

জয় নামের আমার একটা এলাকার ছোট ভাই আছে
জয়ের সাথে আমার ৫ বছর ধরে পরিচয়
ওর সাথে আমি আগে খেলতাম ও আমার সব পার্সনাল কথা জানে
ওর কাছে আমি সব কিছু শেয়ার করতাম
জয়ের সাথে আমার দেখা হওয়ার পর ওর কাছে আমি তৌসির কথা বললাম
তার পর জয় বললো, ও নাকি তৌসির ক্লাসের অনেক জন কে চিনে
জয়ের সামনে আমি কান্না কান্না ভাবে বললাম,, ভাই আমি কোনো দিন প্রেম করি নি
কোনো দিন কোনো মেয়ের পিছনে যাই নি
জীবনের প্রাথম আমি কাউ কে এত টা ভালোবেসে ফেলেছি
তৌসি কে এক দিন না দেখলে রাত এ ঘুম হয় না
আমি খাওয়া-দাওয়া সব ছাইরা দিসি
এই সব শুনার পর জয় আমার অবস্থা তা বুঝল আর বললো,, যেই ভাবে হক আমার হেল্প করবে
কিন্তুু ভাবার বিষয় টা হচ্ছে, জয় মর্নিং শিফটের কাউ কে চিনে না
জয় তবুও বলেছে,, খোঁজ নিয়ে দেখবে

কিন্তুু আমার মন শুধু ছটফট করতো তৌসির জন্য
আমার অবস্থাটা কি তা এক মাত্র আমি ই বুঝতাছি
কষ্ট আর কষ্ট!!!
মাঝে মাঝে আত্নহত্যা করতে ইচ্ছা হয়ছিল কারণ, এই কষ্ট গুলা আমার সজ্যর বাহিরে ছিলো

আমি একজন ক্রিকেটার ছিলাম
অবশ্য ক্রিকেট খেলি শুধু মজার জন্য কিন্তুু ন্যাশনাল টিমে খেলার যোগ্যতা আছে আমার। এখন শুধু লীগ খেলি ইচ্ছা করলে এখন ও উপরের লেভেলে যেতে পারবো
ক্রিকেট ক্যারিয়ারের জন্য কোনো দিন কোনো মেয়ের পিছনে যায় নি এমন কি কারও সাথে রিলেশন করি নি
আমি মাঝে মাঝে বাসার ছাদে উঠতাম
মাসে এক থেকে দুই বার
আমাদের বাসায় এক দিন আমার কাজিন বেড়াতে আসে
কাজিন ভাই কে নিয়ে ছাদে গেলাম। আমাদের বিল্ডিংয়ের সামনে আরেকটি বিল্ডিং ছিল যার নাম: হামিদ টাওয়ার
এই বিল্ডিংয়ের ছাদে অনেক গুলা মেয়ে উঠত
আমরা ছাদে উঠার পর ঐ মেয়ে গুলা আমাদের দেখে ইশারা দিচ্ছে আর ফান করতাছিল
তারপর আমার কাজিন ভাই ওদের সাথে ফান করা শুরু করলো
আমি শুধু দাঁড়িয়ে শুধু দেখতে থাকলাম
আমিও যদি ঐ মেয়েদের সাথে ফান না করি তাহলে আমার কাজিন ভাববে, শহরে থেকে গ্রামের মানুষদের মত behave  করি, আমার সাহস নেই, মজা করতে পারি না
এই রকম কিছু একটা ভেবে আমি ও ওদের সাথে ফান করি
এই ভাবে অনেক অনেক দিন
এই সব কারণে একদিন বাসায় বাঁশ খেয়েছিলাম
আমার ফ্যামেলির সবাই জানে আমি কেমন তাই আমাকে কিছু বলে নাই
আমার ঐ কাজিন কে অনেক বকা দেয়

এই ঘটনার পর থেকে আর ছাদে উঠা হয় না

ঐ মেয়ে গুলার  মধ্যে একটা মেয়ে ছিল যেই মেয়েটি আমাদের সাথে আর আমরাও ঐ মেয়েটির সাথে ফান করি

যার নাম ছিল মাহিরা

যাইহক আমি পরে অনেক চেষ্টা করে তৌসির প্রায় সব ফ্রেন্ড কে আমার বেপারে বলছি
তৌসি সব ফ্রেন্ডে কে বলেছি, আমি ওদের জিজু হয়

সব রাস্তা যখন বন্ধ তখন কি করবো বুঝতাছিলাম না
শুনলাম, তৌসি নাকি পোষা প্রাণী পছন্দ করে তাই আমি একটা কিউট দেখে খরগোস কিনে আনলাম
ভেবেছিলাম, আমার এই খরগোস টা দেখতে তৌসি আমাদের বাসায় আসবে কিন্তুু আসা তো দূরের কথা আমার খরগোস আছে এইটা তৌসি জানত না

 

আমি তৌসির প্রেমে এতটাই পাগল হয়েছিলাম যে, আমার ও তৌসি যত গুলা ফ্রেন্ড আছে সবাই কে আমার আমার মনের কথা গুলা শেয়ার করেছিলাম
তৌসির কানে এই কথা গুলা কোনো ভাবে গেছে
৬/১২/১৭ তারিখেন কথা আমার আইডিতে অচেনা একজন মেসেজ পাঠায় কিন্তুু আমি জানতাম না এই মেয়ে টা কে
হয়ত এই দিনটা ছিল আমার জীবনের অন্যতন খুশির দিন
ঐ মেয়েটা আমাকে জিজ্ঞাস করলে,,, আপনি কে?
তার পর আমি বললাম,, আমাকে চিনবেন না
তারপর ও বললো, থার্ড ফ্লরে থাকেন?
আমি বললাম,, হুম কিন্তুু আপনি কি করে জানেন??
আপনার নাম কি???
মেয়ে টা বললো , তৌসি

 

আমার নিজের চোখে বিশ্বাস হচ্ছিল না
আমি ভেবে ছিলাম, আমার কোনো একটা ফ্রেন্ড আমার সাথে ফান করতাছে
ফান করাটাই স্বাভাবিক কারণ, আমি সবাই কে বলেছি তৌসি কে আমি কতটা ভালোবাসি
অনেকেই ভাবছিল, আমি পাগল হয়ে গেছি

আমি সিউর ছিলাম না যে এইটা তৌসির আইডি
প্রথম দিনেই আমি তৌসির সাথে অনেক মজা করি
তৌসি কে আমি বললাম,, তুমাকে দেখার জন্য কাল ১:০০-১:৩০ পযর্ন্ত বারান্দায় বসে ছিলাম কিন্তুু তুমার দেখা পেলাম না
ও বললো,, এক্সাম ১১ টার দিকে শেষ হয়ে গেছে। আমাকে দেখে কি করবা??
আমি বললাম,, বুঝবাবা না

মাঝে মঝে তৌসি আমার সাথে অনেক হার্ড ভাবে কথা বলতে
আমি বলেছিলাম,, আমি কলেজে পড়ি তা কি জানো??
ও বললো,,  না! জেনে কিরবো?
আমি বললাম,,  আমার সাথে এই ভাবে কথা বইলো না আমি মারা যাব। তুমি তো অনেক ভালো মেয়ে তাই তো তুমাকে এতটা ভালোবাসি

৬ তারিখের রাত ও ৭ তারিখের সকালে তৌসি কে অনেক গুলা মেসেজ দেয় কিন্তুু রিপ্লে নাই
কান্না কান্না ভাব আমার
তারপর তৌসি কে বলি,, সত্যি করে বলো তো তুমি কে?? তুমি যদি তৌসি হও তাহলে ঐ আইডি ইউজ করনা কেন??
তৌসি বললো,, হাহাহা আমি তৌসি। আমার ঐ আইডির পাসওয়ার্ড আমার বোন চেঞ্জ করে ফেলছে
তারপর আমি বললাম,,  তুমাদের দরজার সামনে আসবো? আমার সাথে দেখা করবা?
তৌসি বললো,,  আইসা দেখো মাইরা হসপিটালে এডমিট করবো। আমি তুমার জিএফ নাকি যে তুমার সাথে দেখা করবো??

তারপর আমি বললাম,,  মানুষ কেন দেখা করে তা জানো না? তুমার ফ্রেন্ডের কাছে আমার ব্যাপারে কিছুই শুনছো না???

ও বললো,,  শুনার প্রয়োজন হয় নাই

আমি বললাম,, তুমি সব জানো কিন্তুু না জানার অভিনয় করতাছ

তৌসি বললো,, ভালো করছি

তারপর আমি বললাম,, তুমাকে পাগলের মত লাভ করি তা জানো না???

ও বললো,, না তো

আমি তৌসির সাথে সব সময় ভয়ে কথা বলতাম
কারণ এই টা তৌসির আইডি তা সিউর ছিলাম না
এই আইডি তে তৌসির বড় বোনের ছবি ছিল তাই অনেক ভয় পেতাম
৭ তারিখ বিকাল বেলার কথা

আমি তৌসি অই আইডির এবাউটে ঢুকে তার একজন ফ্যামলি মেম্বার পেলাম এই মেয়ের নাম সারা।
সারা তৌসি এক রিলেটিভ হয়। তারপর আমি সারা কে friend request send করলাম
কিন্তুু ও request except করলো না
ওরে মেসেজ পাঠানোর পর মেসেজ রিপ্লে করল
তৌসির ব্যাপারে সারা কে অনেক কিছু জিজ্ঞাস করি
তারপর সারা বললো,, তৌসি ওর এক রিলেটিভ হয়
ওদের বাসায় নাকি সারার প্রায় সময় যাওয়া হয়

সারা কে মেসেজ দিলাম,,, আপু আপনার সাথে কিছু দরকারি কথা ছিল। মেসেজ টা তাড়াতাড়ি রিপ্লাই করেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব
সারা বললো,, কি?
আমি বললাম,,, তৌসি আপনার কেমন বোন হয়???
সারা বললো,, কেমন জানি! আমি জানি না
আমি বললাম,, তোমরা কি সেম ক্লাস এ পড়েন? মানে ক্লাস ৭ এ পড়েন??
সারা বললো,, না। আমি ওর উপরের ক্লাস এ পড়ি

সারা তৌসির কেমন রিলেটিভ হয় তা নিজেও জানত না কিন্তুু সারা নাকি তৌসি কে জন্মের পর থেকেই চিনে

তারপর সারা কোন ক্লাসে পড়ে, বাসা কোথায় সব জানলাম
সারাদের বাসা আমাদের বাসার সাথেই ছিল কিন্তুু কেউ কাউ কে চিনতাম না
আমি সারাটা দিন শুধু সারা কে তৌসি বেপারে অনেক কিছু জিজ্ঞাস করতলাম
একদিন সারা রেগে বললো,, তৌসি কে নিয়ে তুমার এতো মাথা ব্যাথা কেন???
আমি তখন কিছু বললাম না
সারা সব কিছু বুঝে গেছে। মানুষ কখন আমার মত পাগল হয় তা সবাই জানে

সারা আমাকে প্রথম দিকে অন্য আরেক টা ছেলে ভাবছিল তাই আমার কোনো হেল্প করবে না তা আমাকে আগেই বলে রাখছিল
যখন আমি সারা কে বলছি,, আমি তৌসি কে ৩বছর ধরে ভালোবাসি আর আমরা একই বাসায় থাকি

তখন সারা আমার বেপারে জানতে চাইলো
আমি সারাকে সব খুলে বললাম তার পর আমাকে চিনতে পারলো
ও বুঝতে পারছে,, আমি অনেক ভদ্র ছেলে
তারপর সারা কে আমি বোন বানাই
ও বলেছিল,, আমার হেল্প করবে
সারা আপু আমাকে অনেক বিলিভ করতো আর আমি তা কে নিজের বোনের মতই দেখতাম
ওর কাছে আমি মনের সব কথা শেয়ার করতাম

সারা আমাকে অনেক বার সরি বলেছে
কারণ, আমাকে অন্য একজন ভেবে ছিল

১০/১২/১৭
অন্য দিকে তৌসি আমার সাথে কেমন ভাবে জানি কথা বলতাছিল
তৌসি আমাকে মেসেজ দিলো,, ভাই আপনি কি থার্ড ফ্লোরে থাকেন?
আমি বললাম,, ভাই? এই সব কি বলতাছ???
আমি কিন্তুু মারা যাব
ও বললো,, তাহলে কি ডাকবো?
আমি বললাম,, কিছু ডাকতে হবে না
কথা বলো তুমার অন্য অপেক্ষা করতাছি
ও বললো,, করতে থাকো। আমার কি?
আমি বললাম,, আমার সাথে এমন করতাছ কেনো??? আমি কি করছি?? তুমার জন্য সারা দিন-রাত অপেক্ষা করি

তারপর তৌসি বললো,, করতে থাকো বাট লাভ নাই
আমি অন্য একজন কে ভালোবাসি

আমি বললাম,, প্লিজ আমার সাথে এমন কইরো না। তুমি শুধু আমার। তুমি আমার লাইফ তুমাকে ছাড়া বাঁঁচব না

তৌসি বললো,, তাইলে মরে যাও

আমি বললাম,, তুমি এত নিষ্ঠুর তা আগে জানতাম না! আমার জন্য একটুও কষ্ট হয় না তুমার???

তৌসি বললো,, আমি ভেম্পায়ার সো আই এম বেড

আমি বললাম,, অনেক ভালোবাসি তুমায়। নিজের লাইফ থেকেও অনেক বেশি ভালোবাসি তুমায়
তৌসি বললো,, আইসা যাও যাও

অন্যদিকে রাতের বেলায় সারা আপুর সাথে কথা বলি
সারা আপু রাত ১১:৫৫-১:২০ পর্যন্ত এক্টিভ থাকত
আমি সারা কে বলি,,, আপু জানো আমি আল্লার কাছে ওয়াদা করেছি, আমি যদি তৌসি কে পায় তাহলে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ব আর তৌসি কে জান্নাত জিফট করব
সব সময় আমি ওর জন্য কান্না করি

তারপর সারা বললো,,, তুমি না অনেক ভালো
আচ্ছা, আমি তৌসি কে কি তুমার কথা বলবো?

আমি বললাম,, বলে দেখতে পারো। আমি তৌসি কে অনেক অনেক অনেক অনেক বেশি ভালোবাসি। প্রায় ৩ বছর ধরে কিন্তুু এতো দিন ভয়ে বলতে পারি নাই। আমার কোনো ফ্রেন্ড নাই যে আমার হেল্প করবে
অনেক কষ্ট করে তুমাকে পেলাম। ওরে আমি নিজের লাইফের থেকেও ভালোবাসি ওরে না পাইলে আমি সুইসাইড করব

সারা বললো,, ধুরররর সুইসাইড করলে কি সে তুমার হয়ে যাবে???

আমি বললাম,, কিন্তুু ওরে না পাইলে প্রতিটা মুহুর্ত আমাকে কষ্ট পেতে হবে
এক মাত্র মৃত্যুই পারে আমাকে এই কষ্ট থেকে মুক্তি দিতে

তারপর সারা বললো,, ধেততত

তারপর আমি বললাম,,, জানো তৌসি কে নিষ্পাপ নিষ্পাপ লাগে তাই ওরে ভালোবেসেছি
ওরে দেখার জন্য সব সময় বারান্দায় বসে থাকি
এক মাত্র আল্লাই জানে, ওরে আমি কতটা ভালোবাসি!

সারা বললো,, তুমি আর কাউ কে পাইলা না????

আমি,, ওরে ৩ বাছর ধরে ভালোবাসি। আগের কথা মনে নাই। কখন থেকে ওরে ভালোবেসে ফেলেছি তা নিজেও জানি না
আমি অন্যকাউ কে পেতে চাই না আর পাওয়ার আশা ও করি না

পরে দিন ঘুম থেকে উঠে সবার আগে সারা আপুকে মেসেজ দেয়
সারা কে বলছিলাম,, আপু আজ তৌসি কে নিয়ে সপ্ন দেখছি

সারা আপু কে জিজ্ঞাস করলাম আমি যার সাথে কথা বলতাছি এইটা কি তৌসি আইডি??
সারা আপু বললো,, জানি না

অন্য দিকে আজ তারিখ ১৭
৬ দিন ধরে তৌসির সাথে কথা হয় না
তৌসির সাথে কথা না বলে আমার কি আবস্থা হয়েছে তা আমিই ভালো করে জানি
আজ বিকালে তৌসি কে আমাদের বাসার সামনের মাঠে দেখছি
ওকে দেখলে আমি যেন কোথায় হারিয়ে যায়
কিছু বুঝিনা শুধু এক নজরে তাকিয়ে থাকলাম
ও আমাকে দেখে ফেলছিল
পরের দিন তৌসি কে এক্টিভ পেলাম
ওরে জিজ্ঞাস করলাম,, তুমি কি কাল মাঠে গিয়েছিলে??
তৌসি বললো,, হুম তুমাকে দেখেছিলাম বারান্দায় ছিলা

এর পর আমি সিউর ছিলাম আমি যার সাথে এতো দিন কথা বলছিলাম সে তৌসি
যাকে আমি পাগলের মত ভালোবাসি

সারা আপু বলেছিল,, তৌসির এক্সাম শেষ হলে ওদের বাসায় গিয়ে আমার কথা বলবে
আমি অপেক্ষায় থাকলাম
কয়েকটা দিনের ব্যাপার ওর এক্সাম শেয় হবে ২০ তারিখে

সারা আপু কে বললাম,, আমি হয়তো ভাল কোনো কাজ করেছিলাম যার জন্য আপনার মত একটা ভালো বোন পেলাম

সারা আপু বললো,, আমি ও অনেক ভালো

তারপর সারার সাথে আমি অনেক ক্লোজ হয়ে পড়লাম
আপু আমার পিক চায়ছিল আর আমি দিলাম

সারা কে আমি তৌসিদের বাসায় যেতে বলেছিলাম কিন্তুু ৩দিন ধরে আমাদে ঘুরাইতাছে
সারা আমাকে বললো,, তার আম্মু নাকি তা কে বাসা থেকে বের হয় না
তারপর আমি বললাম,,
তুমাকে নিজের বোনের মত মনে করতাম আর তৌসি কে নিজের রুহু মনে করি
রুহু ছাড়া মানুষ যমন বাচতে পারে না ঠিক আমি ও তৌসি কে ছাড়া বাঁঁচব না
অনেক তাড়াতাড়ি মরে যাব

সারা বললো,, আমি আছি তো
আমি,,, আচ্ছা তুমার ভরসায় তো আছি আর না হয়লে অনেক আগেই মারা যেতাম

১৯ ডিসেম্বর সকাল ১১:৫৬
তৌসি কে আমি মসেজ দিলাম,, তুমি এখন কোথায়????
তৌসি বললো,, সারা আপুদের বাসায়

এই টা শুনার পর ভয়ে আমার বুকটা শুকিয়ে গেছে
সারা আপু আর তৌসি কথা বলতাছে আমাকে নিয়া
আমি তৌসি কে মেসেজ দিলাম,,, সারা তুমাকে কি বলেছে???
তৌসি,,, কি আবার!!!
আমি,, আমাকে কোনো ভাবেই এক্সেপ্ট করতে পারবে না?

তৌসি বললো,, কেন করবো ভাই??
তারপর আমি বললাম,, আমার ভালোবাসা কে প্লিজ অপমান কইরো না তুমি হয়ত জানো না, তুমাকে কত বাছর ধরে ভালোবাসি আর কত টা ভালোবাসি!
তুমার কে যখন দেখি আমি তখন জানি কোথায় হারিয়ে যায়
তুমার মুখের ঐ হাসিটা দেখে আমি আমার জীবনের সব কষ্ট ভুলে যায়

তৌসি বললো,, ভালো। তুমি ফ্লল্ম দেখ তাই না??

তারপর আমি বললাম,, না
মুভি দেখতে আমার একটু ও ভালো লাগে না
তৌসি বললো,,, হাহাহাহা তাহলে সিনেমার ডায়ালগ দেও কেনো??
তারপর আমি বললাম,,, এই গুলা মুভির ডায়ালগ না
শুনো, আমি তুমাকে মন থেকে লাভ করি আর আমি যা বলি সব মন থেকে বলি

তৌসির সাথে সব সময় আমি এই ভাবে কথা বলতাম
কিন্তুু ও আমার কে শুধু ignore করত
আমি তৌসি কে বললাম,, আচ্ছা জানো, মানুষ কখন পাগল হয়??
তৌসি,,, না জানি না
আমি,, মানুষ যখন কাউকে নিজের থেকে বেশি ভালোবেসে ফেলে তখন মানুষ পাগল হয়
যেমন আমি পাগল হয়ছি তুমার প্রেমে। কি করব কিছুই বুঝতাছি না। এই পাগলের দুনিয়া টা তুমি

তৌসি,, গুড জোক্স

ঠিক দুই দিন পর আমি বাসার সামনের মাঠে দাঁডিয়ে ছিলাম
তখন তৌসি আর তার ২টা ফ্রেন্ড মাঠে এসে বেডমিন্টুন খেলছিল
আমি ওর দিকে তাকিয়ে ছিলাম
আর মনের ভিতর টা আনন্দে নেচে উঠল
আমি কি করব বুঝতাছিলাম না
তৌসি বাসায় চলে গেল
তারপর তৌসির একটা ফ্রেন্ডের সাথে কথা বললাম
ওরে বললাম,,, আপু আমি তৌসি কে অনেক ভালোবাসি প্লিজ একটু হেল্প করেন

মেয়ে টা সাথে সাথে না করে দিলো আর আমার সাথে অদ্ভুত ভাবে কথা বলা শুরু করলো
আমি এখন কিছুই বুঝতাছিলাম না
শুধু ঐ মেয়ের কথা গুলা শুনতাছিলাম
তারপর ঐ মেয়ে আমাকে বললো,,, তুই কি আমাকে চিনস না??? আমাকে কোনো দিন দেখছস না???
আমি বললাম,, না তো
তারপর ঐ মেয়ে টা বললো,, মনে নাই হামিদ টাওয়ারে……….

এখন আমি বুঝে গেলাম ঐ টা ঐ মেয়ে যার সাথে আমি আর আমার কাজিন ছাদ থেকে ফান করতাম
যার নাম মাহিরা
আমি ভয় পেয়ে গেছিলাম
তারপর মাহিরা বললাম,, আমাকে সরি বললে হেল্প করব

এই বলে চলে গেল

অন্য দিকে বাসায় আইসা তৌসি সাথে চ্যাটিং করি
সব সময়ের মত এখনও তৌসি আমাকে ইগনোর করতাছে
আমি তৌসি কে বলালাম,,, আমি যদি কাল অথবা অন্য দিন মারা যায় তাহলে মনে করবা তুমায় অনেক বেশি ভালোবাসতাম
অনেক অনেক অনেক অনেক অনেক বেশি
নিজের থেকেও হাজার হাজার গুন বেশি

তৌসি বললো,,ওওওওও ওকে বাট মইরা কি করবা?

আমি,,, জন্ম মৃত্যু সব কিছু আল্লার হাতে
আল্লা যদি চাই তাহলে কাল ও মরতে পারি এমন কি এখন ও

তৌসি,,, আমি ভাবছিলাম সুইসাইড করবা

তারপর আমি বললাম,, সুইসাইড করা পাপ। আমি কয় একদিন আগে এইটা করার কথা ভাবছিলাম। আমার লাইফ টা অনেক কষ্টের
আমি কোনো দিন কারও সাথে রিলেশ করি নি
তুমাকে ৩ বছর ধরে ভালোবাসি

তৌসি,,,, তো কি হয়ছে! আমি ও তো করি নাই
৩ বছর!!!

আমি,, হুম তুমি যখন ক্লাস ৫ এ পড়তা

তৌসি,,, ওওওওও ক্লাস ৫! ওয়াও

তারপর আমি বললাম,,, তুমি যখন ক্লাস ৫ এ পড়তা তখন থেকে তুমায় ভালোবাসতাম কিন্তুু প্রপোজ করি না
ভেবেছিলাম, তুমি ছোট
৬ এ উঠার পর ভেবেছিলাম এই বার প্রপোজ করবব
কিন্তুু করি না
যদি তুমি এই সব না বুঝো
৭ এ উঠার পর ভেবেছিলাম, যেই ভাবে হক এই বার প্রপোজ করতেই হবে কিন্তুু ভয়ে করি নাই
যদি বাসায় আইসা বিচার দেও!!
কিন্তুু লাস্ট দিকে ভাবলাম, তুমাকে না পেলে আমি মরে যাব
তাই তুমার ফ্রেন্ডের হেল্প নিলাম

এই সব শুনার পর তৌসি বললো,, হাহাহা পুরাই মুভি

তারপর আমি বললাম,,,
তুমি আমার ভালোবাসা কে কি ভাবতাস তা জানি না
তুমার প্রেমে পুরাই পাগল হয়ে পড়ছি
অনেক কষ্ট করে তুমার ফ্রেন্ডের সাথে কানেক্ট হলাম
কত কষ্ট করছি তা হয়তো জানো না
এতো কিছু করলাম শুধু তুমার একটু ভালোবাসা পাওয়ার জন্য
আমি তো তুমার কাছে বেশি কিছুই চাই নি
শুধু একটু ভালোবাসা চায়ছি

তারপর তৌসি বললো,, লাভ দিওয়া এত ইজি না
বললেই দেওয়া যায় না

আমি,, তুমাকে এতো ইজি ভাবে দিতে বলছি না
তুমাকে আমি লাভ করি আর সারা জীবন করবো
তুমার জন্য আমি সব কিছু করতে পারবো

সব বারের মতই এইবার ও তৌসি মজা নিতাসে
তৌসি বললো,, তাহলে নাচো

আমি,, নাচতাছি

তৌসি,, proved দাও জানো কাল আমার বার্থ ডে

আমি বললাম,, সত্যি????? সরি আমি জানতাম না

তৌসি,,, এই ভালোবাসো আমায়???

আমি,,, সরি তুমি রাত ১২:০০ তার দিকে আক্টিভ থেকো
সবার আগে আমি তুমায় wish করবো

তারিখ টা ছিল ১৯ ডিসেম্বর
অবশ্য এই টা তৌসি রিয়েল বার্থ ডে ছিল না
আমি সারা রাত ওর জন্য অপেক্ষা করলাম কিন্তুু তৌসি আসলো না

তৌসি আমাকে বললো,,, তুমি আমাকে এত লাভ করো কেন?
আর গার্ল পাইসো না????

আমি,,, এত ভালোবাসি কেনো তা জানো?

তৌসি,,, না why??
আমি,,, সত্যি বলতে তুমি দেখতে কেমন তা জানি না
কোনো দিন তুমাকে ঐ ভাবে দেখি নি
তুমার মুখটা অনেক নিষ্পাপ নিষ্পাপ লাগে
কোনো দিন কাউ কে দেখে এমন লাগে নি
তাই তো এখনও কারও প্রেমে পড়িনি

তৌসি,,, Wow great I’m impressed

এই টা শুনার পর আমি অনেক খুশি হয়েছিলাম
তারপর আমি বললাম,,,
আমি তুমার কাছে কিছু চায় না
তুমার ঐ মন টা আমাকে দিয়ে দাও যাকে আমি এতো টা ভালোবাসি

তুমি শুধু আমার
তুমি আমার লাইফ

এই টা শুনারপর তৌশি বললো,,,
আমি যে কত মানুষের লাইফ!!!

আমি হতবাক হয়ে বললাম,, মানে কি??????
তৌশি বললো,,, নাবিল নিলয় নাঈম আরও অনেকের নাম জানি না আমি কাউ কে ভালোবাসি না ওরা সবাই তুমার মত

এই তা শুনার পর অনেক রাগ উঠল
আসলে কাউ কে বেশি দাম দিতে যে কেউ ভাবে উঠবে এইটা স্বাভাবিক
এই কথা শুনারপর আমি বললাম,,,,
হাহাহাহা তুমি যদি আমাকে ওদের মত ভাবো তাহলে এইটা তুমার ভুল ধারণা
আমি কোনো ফালতু ছেলে না

আমি দেখতে ও ফালতু না
কেন তুমায় ভালোবেসেছি এই টা তো আগেই বলেছি
যাদের নাম তুমি বলতাছ তারা তুমায় কি দেখে লাভ করছে এই টা আমার থেকে তুমি ই ভালো জানো
আমি কোনো দিন কোনো মেয়ের পিছনে ঘুরছি না
আর কোনো দিনও ঘুরবো না
কিন্তুু কাউ কে নিজের থেকেও বেশি ভালোবেসেছি আর সেটা তুমি

এই সব শুনে তৌসি বললো,, wow এতো love করো…..

আমি বললাম,,, হুম অনেক বেশি ভালোবাসি তুমায়
আর তুমি আমার ব্যাপারে কিছুই জানো না
শুধু একটা কথায় বলবো, আমি তুমার জীবনে এসেছি সাধারণ মানুষের মত আর সাধারণ মানুষের মতই ভালোবাসা পেতে চায়

তৌসি,,,, হাহাহাহা এতো filmy কথা কোথায় থেকে শিখছ??

তারপর আমি কিছু বলি নাই
বিকালে আমার ঐ ছোট ভাই জয়ের সাথে দেখা করি
ওরে সব মেসেজ দেখায়। তারপর জয়ে বললো, চিন্তা না করতাম
আমাদের নাকি রিলেশ হবে
এইভাবেই চালিয়ে যেতাম
জয় আরো বললো,, তৌসি নাকি চাইতাছে আমি ওর পিছনে ঘুরি
আমি জয়কে ক্লিয়ার ভাবে বলে দিলাম,,
আমি কোনো দিন কোনো মেয়ের পিছনে গেসি না
আর যাবও না

আর জয় কে তৌসির আইডি দিলাম
পরে জানতে পারলাম তৌসি জয় কে চিনে
তৌসি একবার একটা প্রব্লেমে পড়েছিল
জয় হেল্প করেছিল এই ভাবেই জয়ের সাথে তৌসির পড়িচয়
তৌসি জয় কে ভাইয়া বলে ডাকে
আর জয় আমাকে জিজু বলে ডাকা শুরু করল

বিকাল বেলা আবার তৌসির ফ্রেন্ড মাহিরার সাথে আমার দেখা হয়
মাহিরা কে সব খুলে বলাম
মাহিরা বুঝতে পারছে আমি অনেক ভালো ছেলে
মাহিরার সাথে ফ্রেন্ডশিপ করি তারপর মাহিরা বললো,,, তৌসি অনেক ভালো মেয়ে। ও একটু অন্য রকম সবার থেকে আলাদা

আমি মাহিরার মুখ দেখে এই সব শুনার পর আমার আনন্দের সীমা ছিল না
আমি ভালো একজন মানুষ কে ভালোবেসেছি এই টা ভেবে আমি লাফিয়ে উঠলাম
আর মাহিরা বললো,,  আমার হেল্প করবে
অন্য দিকে তৌসি মাথায় কাপড় দেয় না বলে রাতে ওর সাথে কথা বললাম
তৌসি বললো,, আমি ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি কিন্তুু পর্দা করব না

ও নামাজ পড়ে এই টা শুনে অনেক খুশি হলাম
এইটা আমি আগেই জানতাম কিন্তুু ও পর্দা করবে না এই টা শুনার পর অনেক রাগ উঠল
কিছু করার ছিল না কারণ লাইফটা ওর নিজের

তৌসি কে বললাম,, কাল তুমি মাঠে আসবা??
তৌসি বললো,,, না আমার এক্সট্রা ক্লাস আছে
আমি,,, তাহলে তুমাকে দেখব কি করে??
এক দিন তুমায় না দেখলে রাতে ঘুম হয় না
তৌসি,,, হাহাহাহা ছাদে আসবো চলবে??

তার পর শুক্র বারে ছাদে দেখা করার কথা বললাম
তৌসি রাজি হলো
তৌসি আমাকে একটা খারাপ খবর কথা বললো যার কারণে আমার লাইফ টা পুরা শেষ হয়ে গেছে
এই টা ছিল আমার লাইফের সবচেয়ে বড় খারাপ খবর
তৌসি নাকি ২৩ তারিখে ঢাকা চলে যাবে
আসবে জানুয়ারিতে
এই কথা শুনে আমার কি অবস্থা হয়েছিল তা কেবল আমি ই জানি
যাকে একদিন না দেখলে ঘুম হয় না
তাকে ছাড়া এতো দিন কি করে থাকবো তা ভাবলেই মাথা ঘুরায়

শুক্রু বারে ছাদে উঠলাম তৌসির সাথে দেখা করার জন্য
আমার সাথে জয় ছিল ৪:৩০ এ দেখা করার কথা ছিল কিন্তুু আমি অনেকক্ষন অপেক্ষা করলাম
৪৭ মিনিট অপেক্ষা করেছিলাম কিন্তুু তৌসি আসলো না
আমি নেমে গেলাম। আমি নামার ১৫ মিনিট পর তৌসি ছাদে উঠল
ভুলটা আমার ছিল আর কয়েক মিনিট অপেক্ষা করলে তৌসির সাথে দেখা করতে পারতাম

আর হ্যা তৌসি কে দিওয়ার জন্য আমি অনেক গুলা গোলাপ কিনছিলাম

কিন্তুু ওর সাথে দেখায় হইল না

বাসায় আইসা তৌসি কে মেসেজ দিলাম
তৌসি বললো,, অপেক্ষা করছি না কেন???
আমি বললাম,, আমি ভাবছিলাম তুমি আসবা না সরি

তৌসি কে বললাম,, আমারে যদি এক্সেপ্ট করো তাহলে এখনি করে ফেলো কারণ ২০১৮ এর মধ্যে আমি ক্রিকেট নিয়ে অনেক বিজি থাকবো
তৌসি বললো,, আর যদি না করি তাহলে?
এই টা শুনার পর আমি বললাম,,,
তাহলে করার কিছুই নাই
করলে ভালো হত কারণ আমি তুমাকে অনেক বেশি ভালোবাসি

তৌসি বললো,, পরে অন্য কাউ কে আই লাভ ইউ বলবা
আমি বললাম,, মইরা গেলেও না
আমি তুমাকে ৩বছর ধরে ভালোবাসি
আমি চাইলে অন্য কারও সাথে রিলেশন করতে পারতাম কিন্তুু করি নাই
আল্লার কসম তুমাকে অনেক বেশি ভালোবাসি
নিজের জীবনের থেকেও অনেক বেশি
তুমাকে একদিন না দেখলে ঘুম হয় না
আমি এই পর্যন্ত অনেক অনেক গুলা আফার পাইসি কিন্তুু কারও সাথে রিলেশন করিনি

তৌসি,, তাই নাকি? কি করো?
আমি,, হুম তুমাকে নিয়ে সপ্ন দেখতাছি
তৌসি,,, কি সপ্ন???
আমি,,, তুমাকে বিয়ে করব এই সব
সারা জীবন তুমার সাথে থাকব
তুমাকে সব সময় হ্যাপি রাখবো
তুমার সব ইচ্ছা পূরণ করবো
তুমার চোখে কখনও পানি আসতে দিব না
এই সব

তৌসি,,, তাহলে আমার বাসার সামনে এখন আসো?
কি হলো এই লাভ তুমার??

তারপর আমি বললাম,, আসলে কি হবে???

তৌসি,, ডোর হোল দিয়ে তুমাকে দেখব

তারপর মনে সাহস জুগিয়ে গেলাম

এই দিনের রাত ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে খুশির দিন
কারণ তৌসি আমার সাথে অন্য ভাবে কথা বলতাছিল

তৌসি আমাকে একটু পর বললো,, ও নাকি ওর কাজিন ভাই কে নিয়ে বাহির হবে

তারপর আমি বললাম,, ওয়াও আমার সালা
ওকে অনেক গুলা চকোলেট কিনে দিতে হবে

তৌসি,, কি করো??

আমি,, এই তো চিকেন ফ্রাই রান্না করি
তুমি কি কি রান্না করতে পারবো??

তৌসি,, হাহাহা আমি শুধু পানি গরম করতে পারি
আমি,, তাহলে আমাকে কে রান্না কইরা খাওয়াবে???
তৌসি,,, কেন? তুমি পারো না?

আমি,, হুম তার মানে বিয়ের পর তুমাকে রান্না করে খাওয়াতে হবে???
Omg

তৌসি,, হুম

আমি,,, তাহলে আফিসে কে যাবে???

তৌসি,,, আমি

এই টা শুনে অনেক হাসি পেল
তার পর আমি তৌসি কে বললাম,,,
হাহাহাহা সব দেখি উল্টা
আবার এইটা বইলনা যে, বাচ্চা আমাকে জন্ম দিতে হবে
এই টা তুমার কাজ

এইটা শুনে তৌসি বললো,, হাহাহা চলবে

তৌসি তার কাজিন ভায়ের সাথে রাতের বেলা ফুসকা খেতে গেল
বাসায় ফিরার পর আবাও কথা হয়
আমি,,, আমি তো মরে যাব আমার একটা লাস্ট ইচ্ছা পূরন করবা?
তৌসি,,, কি????
আমি,,, মরার আগে তুমার কে বিয়ে করতেতে চাই। সারা জীবন সংসার করতে চাই

এই টা শুনে তৌসি বললো,,, হাউ

আমি বললাম,, তুমি কাজি অফিস চিনো??
তৌসি,,, না রেজেস্ট্রি অফিস চিনি
আমি,,, হাহাহা ঐ খানে বিয়ে করা যায়??
তৌসি,,, হুম ডিভোর্স ও করা যায়
কেনো বিয়া করবা নাকি?

আমি,,, হুম তুমাকে নিয়ে যাব তারপর আমরা বিয়ে করবো
অবশ্য তুমারে দিয়ে ভরসা নাই
বিয়ের পরের দিন ই মনে হয় ডিভোর্স দিয়া দিবা

তৌসি,,, হাহাহা হয়লেও হতে পারে

আমি,, বিয়ের পর তুমাকে জাস্ট বাতাস খাওয়াব

তৌসি,, কেন???

আমি,, কারণ জব নাই

তৌসি,, তুমি আমাকে বিয়ে করলে তুমার আম্মু তুমাকে বাসা থেকে বের করে দিবে

আমি,, হুম তুমাকেও
বাট
চাকরি করলে এইসব ম্যানেজ করা যাইব
মেইন কথা, আমাদের বিয়ের বয়ষ হয় নাই

তৌসি,, বাল্য বিবাহ

আমি,,, করলে সমস্যা নাই

তারপর আমি তৌসির কাছে পিক চাইলাম কিন্তুু ও বললো,, আমি ফ্রি চালাই পিক দিওয়া যায় না

এই টা শুনে আমি বললাম,, হাহাহা তুমি ডাটা কিনতে পারো না?
এতো ফকির কেন???

তৌসি,, কারণ আমার জামায় ফকির জব করে না তাই

এইটা শুনে আমি বললাম,, তুমি বললে জব করা শুরু করবো
আমি আমার বউ কে অনেক ভালোবাসি
তৌসি,, হিহিহি

কয়েক টা মেসেজ দিলাম কিন্তুু হটাৎ করে মেসেজ রিপ্লে করতাছে না
রাগে মেসেজ দিলাম,,, মইরা গেছ নাকি???
তৌসি,, হুম
আমি,, প্লিজ এমন বইলো না
তুমি মরার আগে আল্লা যেন আমার মেরে ফেলে

একটু পর ওর মোড ঠিক হয়
ওরে মেসেজ দিলাম,,,
তুমি বলছিলা বিয়ের পর তুমি জব করবা আর আমি বাসার কাজ করব
তুমি এখন থেকেই জব করা শুরু করো

তৌসি,,, হাহাহা আমাকে কেউ জব দিবে না

আমি,, আমি যেকোনো বড় software কোম্পানি তে চাকরি পাব আমি কিন্তুু আমার কোনো সার্টিফিকেট নাই

তৌসি,, আমার আর্ট,আবৃতি রচনার সার্টিফিকেট আছে বাট কোনো কাজের না

আমি,, জানো আমার কেমন জানি অস্তির অস্তির লাগতাছে
আজ তুমায় দেখি নাই তাই এমন লাগতাছে
তৌসি,,, আমি তো কাল ঢাকায় চলে যাব
জানুয়ারি তে আসব

তৌসি,, আমি তোমাকে ছাড়া এত দিন থাকতে পারবো না
মরে যাব
মরে গেলে তুমি বিধুবা হয়ে পড়বে
তৌসি,,, হাহাহা তাহলে আমি আর একটা বিয়ে করে ফেলব
আমি,, না করবা না
তুমি আমার অনেক ভালো বউ
তৌসি,, I was joking

আমি,, কয় টার দিকে যাইবা???
প্লিজ বলো
তুমাকে না দেখলে আমি মরে যাব

তৌসি,,, সকাল ৭-৮টার ভিতরে

আমি,, আমি বারান্দায় তুমার জন্য অপেক্ষা করব
তুমি প্লিজ উপরে আমার দিকে তাকায়বা

তৌসি আমার কাছে promise করছিল যে আমার দিকে তাকাবে
এখন মাঝ রাত আর বলতে গেলে এইটাই ছিল আমাদের শেষ কথা
ঘুমানোর আগে তৌসি আমাকে তার দুইটা পিক দেয়

পিক গুলা দেখে আমি বললাম,,, Wow আমার sweet heart
তৌসি চলে গেল
আমি সকাল ৬:০০-৯:০০ ৩ ঘন্টা অবিরত তৌসি কে একটু দেখার জন্য ওয়েট করলাম
কিন্তুু তার দেখা পেলাম না
পরের দিন জানতে পারলাম তার নাকি ঢাকা যাওয়ার টাইম পরিবর্তন হয়েছে
তৌসি বলেছে,, কাল ঢাকায় যাবে
কিন্তুু কখন যাবে এইটা বলে যায় নি
তৌসির সাথে লাস্ট কথা হয়েছিল
২৩ ই ডিসেম্বর ২০১৭
বিকাল ৫:৩৩ এ

তৌসি ঢাকায় চলে যায় কিন্তুু কোন দিন আসবে তা জানতাম না
অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না
তৌসি ঢাকায় গেছে আজ ৩ দিন হয়ে গেছে
তার কোনো খোঁজ নাই আমার কেমন লাগতাছিল তা কেবল আমি জানি
খাওয়া-দাওয়া সব ছাইড়া দিছিলাম
অনেক চেষ্টা করলাম তৌসি সাথে যোগাযোগ করার কিন্তুু এর contract নাম্বার আমার কাছে ছিল না
ওর ফ্রেন্ডের কাছে ওর খোঁজ নিতাম কিন্তুু কোনো খবর পেলাম না
মাহিরা,সারা আপুর কাছে খোঁজ নিতাম

আমার একটা এলাকার একাটা ছোট ভাই ছিল
নাম তাহমিদ
ওর সাথে আমি আগে নামাজ পড়তাম
তাহমিদের কাছে সব কিছু খুলে বললাম
তাহমিদ নাকি তৌসি কে চিনে
ওরা নাকি আগে এক সাথে করিমগঞ্জে থাকত
তাহমিদ আমাকে বললো,,,, ভাই মেয়েটা কিন্তুু বেশি সুবিধার না
আমি ওর কথা কে মূল্যায়ন করলাম না
তাহমিদের কথা গুলা কে আমার একটু মূল্যায়ন করা দরকার ছিল
কারণ,, তাহমিদ ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ত

যায়হক আমার অবস্থা অনেক খারাপ ছিল
কি করব তা নিজেও জানতাম না
আর মাহিরা বলেছিল,, তৌসি ঢাকায় থেলে আসলে আমার হেল্প করবে
১/১/২০১৮ তৌসি কে ছাড়া নতুন বছর ভাবতে কেমন জানি লাগে
আজ ৯ দিন ধরে তৌসি সাথে কোনো কথা হয় না
এমনি দেখা ও হয় না
খাওয়া-দাওয়া ঘুম সব আমার হারাম হয়ে গেছে। মাথা ঠিক করে কাজ করতাছিল না
আমি ভাবছিলাম ১ তারিখে তৌসি আসবে
কারণ, ভর্তি আর নতুন বই
আমি ১ ও ২ তারিখ সকাল থেকে বাসার সামনে দাঁডিয়ে ছিলাম
কিন্তুু তৌসির দেখা পেলাম না

আমি সারা আপুকে বলেছিলাম তৌসি কে কল দিয়ে জানতে আপু কল দিয়ে জেনে ছিল যে তৌসি কোন দিন আসবে

৪ তারিখ তৌসি ঢাকা থেকে আসলো
ফেইসবুকে এক্টিব ও হলো কিন্তুু আমাকে মেসেজ দেয় না
এমন কি আমার মেসেজও সীন করে না
আমার অন্য আইডি দিয়ে ওরে মেসেজ দিলাম,,,
12 days
288 hour
17280 minutes
1036800 seconds
তুমি এতো নিষ্ঠুর আমি জানতাম না
আমার সাথে কথা বলার একটু ও চেষ্টা করলে না
এত দিন তুমাকে ছাড়া কি ভাবে থাকছি জানো?????

মেসেজ সীন করলো না
আবার মেসেজ দেওয়ার সীন করলো
তৌসি আমার সাথে অদ্ভুত ভাবে কথা বলা শুরু করলো
এমন মনে হলো,, আমি ওর কেউ না
কি হয়তাছে ব্যাপার টা ভালো করেই বুঝতে পারলাম

৮/১/২০১৮ এইটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ সময়।
এই দিনে আমি আমার জীবনের কঠিন সত্যের সম্মুখিন হয়

তৌসি কেমন মেয়ে টা আমি এই দিন বুঝসি

নিজের চোখে হয়ত না দেখলে বিশ্বাস করতাম না
আমি শুনেছি,,,
তৌসি নাবিল নামেেট একজনের সাথে রিলেশন করে
আরও অনেক গুলা ছেলে কে নিজের পিছনে ঘুরাইতাসে
স্ক্রিশট গুলা দেখারপর মাথা ঘুরাইয়া গেল
এমন মনে হলো আকাশ টা আমার মাথার উপর ভেঙে পড়লো
তৌসি সব ছেলেদের সাথে কি চ্যাটিং করে তা নিজের চোখে দেখলাম

এখন বুঝলাম তৌসি এতো দিন ধরে আমার সাথে মাজা নিসে
তৌসিদের স্কুলের সবাই জানে,, আমি নাকি তৌসির পিছনে ঘুরতাছি
পুরা স্কুলে আমি ফেমাস হয়ে গেলাম
এই সব শুনারপর রাতে অনেক কান্না করলাম
তখন ও আমি বিশ্বাস করতে পারি নি
মনে হয়েছিল, আমি একটা খারাপ সপ্ন দেখেছি
আমার বেচে থাকার ইচ্ছা শেষ
কার জন্য বাঁচবো??????? তৌসির নামে এই সব শুনার আগে আল্লাহ আমাকে মেরে ফেললে বেশি খুশি হতাম

কিছুই বুঝতাছিলাম না যা কে ৩বছর ধরে ভালোবাসি সে কি করে এমন হতে পারে!!!!!
যার নিষ্পাপ চেহারা দেখে আমি তা কে ভালোবেসেছি সে কি করে এমন হতে পারে!!!!
এখন রাত বাজে ১০:০০
জয় কে কল দিয়ে বাসার সামনে আসতে বললাম
জয় কে এই সব খুলে বললাম আর প্রমান গুলো দেখালাম
জয়ও বিশ্বাস করতে পারল না
এই বিষয়ে জয়ের সাথে কয়েক ঘন্টা কথা বলি পরে বাসায় এসে পড়লাম
রাত খেলাম না এই ভাবেই অনেক অনেক চেষ্টার  পর  ঘুমিয়ে পড়লাম
ঘুম থেকে উঠার পর এই গুলা সপ্নের মত মনে হয়

তাহমিদ,জুনায়েদ কে এই সব খুলে বললাম
তাহমিদ বললো,, ভাই তুমাকে আগেই সাবধান করে দিছিলাম
কয়েক টা দিন আমার এভাবেই কাটলো
আমার পাশে থাকার মত কেউ নাই
সারা আপুকে এত কিছুই বলি নাই
শুধু এইটা বলেছি,, ওর মত মেয়ে কি করে তুমার বোন হয়??
ও অনেক খারাপ

তৌসি কে আমি বললাম,,, তুমি এমন তা আমি আগে জানতাম না
তৌসি বললো,, আমি evil evil evil evil evil তুমাকে আগেই বলেছি

এই কথা শুনার পর আমি বললাম,, এখন আমার কাছে কি চাও?????
তৌসি,,,, hate

পরের দিন আমি মাহিরার সাথে দেখা করলাম
এই সব দেখে এই সব শুনে মাহিরাও বিশ্বাস করতে পাচ্ছিল না
আমি কয়েক দিন তৌসি সাথে কথা বলা অফ করে দেয়
নিজেকে সামাল দওয়ার চেষ্টা কর করলাম
আমি সবাই কে বললাম,,, আমারর মধ্যে যেই ভালো মানুষ টা জীবিট ছিল ঐ ভালো মানুষ টা কে তৌসি মেরে ফেলেছে
আমি এখন থেকে খারাপ হয়ে গেছি
তৌসি আমাকে খারাপ হতে বাধ্য করছে

তৌসির চোখে আমি এখন খারাপ
কারণ কয়েক দিন পর তৌসি সাথে আমি একটু খারাপ ভাবে কথা বলেছিলাম
তৌসির reaction টা দেখার ইচ্ছা ছিল তাই ঐ রকম ভাবে কথা বলি
তৌসি আমাকে বললো,, আমি নাকি লুইচ্ছা
ছাদের উঠে মেয়েদের সাথে টিস করি
আমি সবাই কে ওর নামে খারাপ খারাপ কথা বলছি
আমাকে অনেক ভালো ভাবত
আমি লায়ার এই সব বলে ব্লক মারল

যাকে এত টা ভালোবাসি সে ই আমাকে চিনলো না

আমি যদি খারাপ হয়ে থাকি তাহলে তৌসি জন্য
আমি যদি লুইচ্ছা হয়ে থাকি তাহলে তৌসির জন্য
আমি অন্য আইডি দিয়া তৌসি কে মেসেজ দেয়,,, সব শেষ
তুমাকে একটা গল্প সেন্ড করব
আমাদের love story
আজ তারিখ ১৮/১/২০১৮
কাল রাতে তৌসি কে নিয়ে সপ্ন দেখছিলাম।  অবশ্য গল্প টা পরার ভাগ্য তৌসির হয় নাই কারণ, কাল রাতে তৌসির কে বকা দিয়া ব্লক দিছি
ওরে আমি অনেক hate করি
ও আমার কিসের সমান এইটা বুঝিয়ে দিয়েছি বাকি টা ইতিহাস

 

মানুষ কখন আত্নহত্য করে জানেন?????
যখন একটা মানুষের জীবনের সব আলো নিভে যায়
যখন পাশে কেউ না থাকে
যখন বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য হারিয়ে গেলে
একাকিত্ব,হতাশা এই সব কারণে মানুষ আত্নহত্যা করে
সবাই বলে আত্নহত্য মহাপাপ
কিন্তুু সবাই তো আর এই রকশ পরিস্থিতি তে পড়ে না
তাই কেন মানুষ আত্নহত্য কতে তা বুঝে না
আগে নামাজ পড়তাম তৌসির জন্য
তৌসি আমার জীবন থেকে হারিয়ে গেছে তাই আর নামাজ পড়া হয় না
আমার থেকেও কেউ নাই

 

লেখকের কিছু কথা:
মানব চোখে আমরা যা দেখি তা সব সময় সত্য হয় না
এই পাপি দুনিয়াতে নিষ্পাপ বলতে কিছুই না
দেখতে নিষ্পাপ এই কথার কোনো মানেই হয় না
তৌসি কে আমি ভালোবেসেছিলাম ও নিষ্পাপ দেখতে বলে
তৌসি কোনো মিস ইউনিভার্স না
ও নিজে কে মিস ইউনিভার্স ভাবতাসে

আমাদের এলাকায় তৌসির থেকেও অনেক বেশি সুন্দরি মেয়ে আছে
আমি চাইলে ওদের কে ভালোবাসতে পারতাম কিন্তুু ও কে কেন ভালোবাসছি এইটা আমি ভাল করেই জানি

কাউ কে বেশি দাম দিলে সে ভাব  দেখাবে
এক সময় আপনাকে ও চিনবে না
এইটাই বাস্তবতা
কারও কাছে নিজের দূর্বলতা প্রকাশ করলে সে আপনাকে বাঁশ দিবে এটাও স্বাভাবিক

কাউ কে বেশি ভালোবাসলে সে আপনাকে তার থেকেও বেশি কষ্ট দিবে
রিয়েল ভালোবাসা বলতে এই দনিয়াতে কিছুই নাই
আপনার কাছে এইটা রিয়েল হতে পারে কিন্তুু আপনি যাকে ভালোবাসেন তার কাছে এই টা শুধুই ফান হতে পারে
আবার দুই জানের কাছে এইটা রিয়েল মনে হলে কিছু সময় পর অথবা ব্রেকআপ হওয়ার পর মনে হবে এইটা শুধুই আবেগ ছাড়া কিছুই ছিল না

এই পাপি দুনিয়াতে আপনি ভাল হয়ে থাকবেন,
ভদ্র হয়ে থাকবেন তাহলে আপনি কোথাও দাম পাবেন না

ভদ্র ছেলেদের ১-২ টা ফ্রেন্ডের বেশি থাকে না
ওদের খারাপ কোনো নেশা করে না
এমন কি মেয়েদের দিকেও তাকায় না
ভদ্র ছেলেদের কে সবাই ক্ষেত বলে
আপনি যদি মেয়েদের কে পটাতে পারেন
খারাপ খারাপ নেশা করেন
আপনাকে সবাই স্মাট বলবে
খারাপ/লুইচ্চাদের কে স্মার্ট বলে
আর ভদ্রদের কে ক্ষেত বলে

কিন্তুু আমি অন্য রকম
আমার দুনিয়া ক্রিকেট,লিখা-লিখি আর ইন্টারনেট

সুযোগের অভাবে ক্রিকেটে আগাতে পারি নাই
কেউ যদি আমার পাশে এসে দাঁড়াত তাহলে এতো দিন ন্যাশনাল টিমে খেলতাম
নিজে কে নিয়ে অহংকার করি না
কিন্তুু যা সত্য তা ই বলছি
ন্যাশনাল টিমে খেলার যুগ্যতা আমার আছে
যারা আমাকে চিনেন তারা ভালো করেই জানে
আমি স্পিনার
৬ ধরনে ভেরিয়শনে বল করি
একটাও বল কারও বুঝার উপায় নেই
ভাবছিলাম, তৌসির ভালোবাসা নিয়ে ক্রিকেটে come back করব
ভাবছিলাম, তৌসি আমাকে সাপোর্ট করবে

আপনাদের কে যদি জিজ্ঞাস করি,
আচ্ছা ফেইসবুক কি হ্যাক করা সমম্ভব???
১০০ জনের মধ্যে ১০০ জন ই বলবে,, না এইটা কোনো ভাবেই সম্ভব না
কিন্তুু আমি বলব,, হ্যাঁ সম্ভব
দুনিয়ার এক মাত্র মানুষ আমি যে কিনা ফেইসবুক হ্যাক করতে পারে


আপনারা অনেকেই ভাবতাছেন,, আমি চাপা মারতাছি
আগে আমার about টা জেনে নিন

আমি
Android software Developer, JAVA , PHP , HTML and CSS Web designer and developer jQuery, JavaScript, WordPress Theme Developer, SSL, SQL, Domain – Hosting Provider, Hacker, Web application security and Graphic designer

আশাকরি বুঝতে পারছেন

freelencer,fivver,upwork এ কাজ করি
টাকার অভাবে আমি আমার social website টা publish করতে পারি না
সেলেব্রিটি হওয়া কোনো ব্যাপার ছিল না
সপ্ন দেখি কিন্তুু কারও সাপোর্ট পায় না
তাই সপ্ন গুলা সত্যি করতে পারি না
যাদের ফ্রেন্ড নাই যারা বাসা থেকে বেশি বের হয় না তাদের কে ফালতু  ভাবা ঠিক না তারা Freelencer হতে পারে
হতে পারে Web developer
হতে পারে Hacker
আর এরা সাধারণত সিংগেল থাকে

আর এই সব মানুষ নিজের পিক কোথাও শেয়ার করে না
আমার এই আইডি ব্যবহার করি ৬ বছর ধরে
কিন্তুু আজ পর্যন্ত একটা পিক ও আপলোড করি নি

আপনি যদি কোনো freelencer,Web developer,software developer,hacker এর সাথে প্রেম করতে সক্ষম হন তাহলে আপনি অনেক সৌভাগ্যবান

কারণ সারা বাংলাদেশ খোঁজে মাত্র কয়েক জন কে পাবেন যারা প্রফেশনাল

আমি দেখতে ও ফালতু না
আমার ব্যাপারে মেয়েরা এই সব না জেনেই ক্রাশ খায়
আর আমার ব্যাপারে এই সব জেনে ক্রাশ খেয়ে অজ্ঞান হয়ে মরে যাবে
কিন্তুু বুঝলাম না কেন তৌসি আমাকে ignore করলো
হয়ত তার চোখে প্রেবলেম অথবা মাথায় প্রবলে
আমি কি ফালতু নাকি?
সারা দুনিয়া খুঁজে ও আমার মত একজন কে পাওয়া যাবে না

তৌসি কে আমি বলছিলাম,, তুমি আমার বালের সমানও হয়ছো না
এই কথা টা ১০০% সত্য
Love Story টা এখানেই শেষ।                 ভালোবাসা কি জিনিস টা আমি এখন জানি না
কষ্ট কি তাও জানি না
কারও কষ্ট বুঝি না
আমার কাছে এখন ভালোবাসা মানে Just Use করা


The End